নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তার পরবর্তী পর্যায়ের শুনানি। কিন্তু সেই শুনানিকে ঘিরেই সাধারণ মানুষের হয়রানির ছবি উঠে আসছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। বালুরঘাটেও তার ব্যতিক্রম নয়। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের শুনানি কেন্দ্র খোলা হয়েছে শহরের সত্যজিৎ মঞ্চ এলাকায়। সেখানে সকাল থেকেই ভিড়—বেশির ভাগই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ।নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে বসানো এই শুনানি ক্যাম্পগুলিতে সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও আলাদা সহায়তা শিবির খোলা হয়েছে।
বালুরঘাটে সেই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মলয় মণ্ডল, সহ-সভাপতি অশোক কৃষ্ণ কুজুর, প্রাক্তন ব্লক সভাপতি কৌশিক চৌধুরী সহ অন্যান্য তৃণমূল নেতৃত্ব।শিবিরে গিয়ে দেখা গেল, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বহু প্রবীণ নাগরিককে শুনানির জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে। এতে চরম সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। শুনানিতে আসা বৃদ্ধা মালতী মহন্ত জানান, “২০০২ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় আমার নাম। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে ভোট দিচ্ছি। তবুও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। খুব সমস্যায় পড়েছি।” একই অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন রমেশচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর কথায়, “অনেক দূর থেকে কষ্ট করে আসতে হয়েছে। বয়স হয়েছে, পায়ে ব্যথা—তবুও আসতে বাধ্য হয়েছি।”এই পরিস্থিতিকে ‘অমানবিক’ বলে আখ্যা দেন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি মলয় মণ্ডল। তিনি বলেন, “সহায়তার জন্য এখানে এসে আমরা যে চিত্র দেখছি, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

বহু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যদি তাঁদের বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণ করতে পারে, তাহলে শুনানির ক্ষেত্রেও বাড়ি গিয়ে ব্যবস্থা করা যেত না কেন?”সহ-সভাপতি অশোক কৃষ্ণ কুজুর জানান, রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশে—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানে—মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তাঁরা এই শুনানি কেন্দ্রে এসেছেন। তাঁর কথায়, “এখানে এসে দেখছি, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষজন মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন।”পাশাপাশি বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের মন্তব্যের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন অশোকবাবু। তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, সাংসদ বলেছেন—বয়স্ক মানুষ যদি ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, তাহলে শুনানি কেন্দ্রে আসতে পারবেন না কেন? আমরা বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন যদি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহ করতে পারে, তাহলে শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় নথিও কেন বাড়ি থেকেই সংগ্রহ করা যাবে না?”এসআইআর শুনানিকে ঘিরে এই ভোগান্তির ছবি বালুরঘাটে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও মানবিকতার সীমা নিয়ে।