রাতের অন্ধকারে পাচারের আগেই উদ্ধার ঘোড়া, দিল্লি থেকে খোঁজ নিলেন মেনকা গান্ধী

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ২ জুলাই: দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার মহারাজপুর পাটন এলাকায় রাতের অন্ধকারে পাচারের আগেই একটি ঘোড়া উদ্ধারকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ঘোড়াটির বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়ে দিল্লি থেকে খোঁজ নেন প্রাক্তন সাংসদ মেনকা গান্ধী। ঘোড়াটিকে নিরাপদে রাখার জন্য পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন উদ্যোগী হলেও, স্থায়ীভাবে কোথায় রাখা হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে মহারাজপুর পাটন এলাকায় এক ব্যক্তিকে একটি ঘোড়া নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। ঘোড়ার ডাক শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে এলে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে ওই ব্যক্তি ঘোড়াটিকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীরা ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব দে-র বাড়িতে নিরাপদে রাখেন।বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উদ্ধার হওয়া ঘোড়াটিকে দেখতে এলাকার মানুষের ভিড় জমে। খবর পেয়ে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা মহাদেব দে বলেন, “গভীর রাতে পশুর শব্দ শুনে আমরা বাইরে বেরিয়ে এসে একটি ঘোড়াকে দেখতে পাই। পরে প্রশাসনকে খবর দিই। ঘোড়াটি পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না, পুলিশ তা তদন্ত করে দেখুক।”ঘটনার খবর পৌঁছায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পশুকল্যাণ বোর্ডের আধিকারিক ব্রতীন চক্রবর্তীর কাছেও। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দিল্লি থেকে উদ্ধার হওয়া ঘোড়াটির শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে খোঁজ নেন প্রাক্তন সাংসদ মেনকা গান্ধী।পশুকল্যাণ বোর্ডের আধিকারিক ব্রতীন চক্রবর্তী জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। কীভাবে ঘোড়াটির নিরাপদ ও স্থায়ী ব্যবস্থা করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”বর্তমানে ঘোড়াটিকে নিরাপদে রাখার জন্য পুলিশ ও ব্লক প্রশাসন যৌথভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে স্থায়ীভাবে কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে।এদিকে ঘোড়াটি কীভাবে ওই এলাকায় এল, আদৌ পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কি না এবং এর পিছনে কোনও পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে কৌতূহলের পাশাপাশি উদ্বেগও ছড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *