‘১৬ আগস্ট: দেন অ্যান্ড নাউ’ নাটকে দেশভাগ, দাঙ্গা ও সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে সরব শিল্পীরা

নিজস্ব সংবাদদাতা, :দেশভাগের আগে ও পরে সাম্প্রদায়িকতার বাস্তব চিত্র এবং তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকে মঞ্চে তুলে ধরল নাটক ‘১৬ আগস্ট: দেন অ্যান্ড নাউ’। প্রবীর মন্ডলের রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয়ে মঞ্চস্থ এই নাটক দর্শকদের সামনে ইতিহাস ও বর্তমানের এক জটিল প্রশ্নমালাকে তুলে ধরে।নাটকটি মূলত দুটি পর্বে বিভক্ত। অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা। প্রথম পর্বে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্ট ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’-এর প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। মুসলিম লীগের পৃথক রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবিকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বাংলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল, তারই নাট্যরূপ ফুটে ওঠে মঞ্চে। নোয়াখালী-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত হিংসা, অগ্নিসংযোগ, ধর্মান্তরকরণ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে নাটকে তুলে ধরা হয়।দ্বিতীয় পর্বে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এক শিক্ষিত কিন্তু সাম্প্রদায়িক মানসিকতার চরিত্র ‘হেকীম সাহেব’-কে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্য ও মতাদর্শের তীব্র বিরোধিতা করেন ‘মহারাজ’ চরিত্রটি। দুই বিপরীত মতাদর্শের সংঘাতের মধ্য দিয়ে দেশভাগের পরেও সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা কেন রয়ে গেল, সেই প্রশ্ন উত্থাপিত হয় নাটকে। পাশাপাশি বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকার জনবিন্যাস ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়েও আলোচনার অবতারণা করা হয়।নাটকে গোলাম সারোয়ার ও হেকীম সাহেবের দ্বৈত ভূমিকায় অভিনয় করেন প্রবীর মন্ডল। মহারাজের চরিত্রে ছিলেন ডঃ কৃষ্ণার্জুন মুখার্জী। এছাড়াও অভিনয় করেন দেবজিৎ সরকার, অশোক গুহ, ডঃ অরিন্দম ভট্টাচার্য, জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য, মধুমিতা, গণেশ দাস, সুমন দত্ত, অর্পণ ভট্টাচার্য, অদিতি চক্রবর্তী, ঈষা নন্দী-সহ অন্যান্যরা।নাটকের আলো পরিকল্পনায় ছিলেন বাদল দাস। রূপসজ্জার দায়িত্বে সমীর ঘোষ। আবহ সঙ্গীতে রানা দাস ও প্রবীর মন্ডল এবং মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন অর্পণ দে, অজিত রায় ও সৌম্য দাস।নাট্যপ্রেমীদের একাংশের মতে, ইতিহাস ও সমকালীন সমাজবাস্তবতার নানা প্রশ্নকে একসূত্রে গেঁথে দর্শকদের ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে ‘১৬ আগস্ট: দেন অ্যান্ড নাউ’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *