নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রয়াত বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। শনিবার রাত দেড়টা নাগাদ কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২। পুত্র শুভ্রাংশু রায় সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক রোগে ভুগছিলেন তৃণমূলের এই নেতা। একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। শেষ পর্যন্ত হৃদ্রোগেই থামল তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বঙ্গ রাজনীতির অন্দরমহলে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাত বাড়তেই সংশ্লিষ্ট বেসরকারি নার্সিংহোমের সামনে ভিড় জমান তাঁর অনুগামীরা।এক সময় তাঁকে বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হত। রাজনৈতিক কৌশলে তাঁর দখল ছিল অনস্বীকার্য। দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তৃণমূল কংগ্রেস-এর অন্যতম সংগঠক। কেন্দ্রের রাজনীতিতেও তাঁর উপস্থিতি ছিল দৃঢ়। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।পরবর্তী কালে রাজনৈতিক জীবনে বড় বাঁক নেন মুকুল রায়। তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন ভারতীয় জনতা পার্টি-তে। তবে ২০২১ সালে ফের প্রত্যাবর্তন ঘটে তৃণমূলে। তার পর থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সেই দলেই ছিলেন তিনি।সংগঠন গড়া, নির্বাচন পরিচালনা থেকে শুরু করে কৌশল নির্ধারণ—বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তাঁর প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতিতে যে এক গভীর শূন্যতা তৈরি হল, তা বলাই বাহুল্য।