নিজস্ব সংবাদদাতা,বালুরঘাট: ৬৩ দিনের অনশন। ক্ষয়ে যাওয়া শরীর। তবু টলেনি সংকল্প। স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা সেই বিপ্লবী যতীন দাস যেন আবার ফিরে এলেন বালুরঘাটের মঞ্চে।শুক্রবার সন্ধ্যায় বালুরঘাটের রবীন্দ্রভবন প্রেক্ষাগৃহে মঞ্চস্থ হল নাটক ‘বুঁকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে’। প্রয়াত বালুরঘাটের প্রাক্তন পুরপ্রধান ও শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব দিলীপ ধরের ৩২তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভার পর দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয় এই নাট্যপ্রযোজনা। বালুরঘাট বি.এড. কলেজ প্রযোজিত এবং শুভাশিস চক্রবর্তী নির্দেশিত নাটকটি যেন ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে আবারও সামনে এনে দিল এক অগ্নিযুগের কাহিনি।নাটকের কেন্দ্রে ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম উজ্জ্বল নাম যতীন দাস। লাহোর জেলে বন্দি অবস্থায় রাজনৈতিক বন্দিদের অধিকারের দাবিতে তাঁর দীর্ঘ ৬৩ দিনের অনশন এবং সেই অনশনের মধ্য দিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার ইতিহাসকে সীমিত সময়ের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন নির্দেশক। জন্ম থেকে মৃত্যু, সংগ্রাম থেকে আত্মবলিদান, যতীন দাসের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলি ছোট ছোট দৃশ্যের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ফুটে ওঠে।নামভূমিকায় সুমন ভৌমিকের অভিনয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। অনশনে ক্লান্ত, কিন্তু মানসিকভাবে অদম্য যতীন দাসকে তিনি বিশ্বাসযোগ্যভাবে মূর্ত করে তুলেছেন। তাঁর ভাইয়ের চরিত্রে প্রতাপ বিশ্বাস এবং ভগৎ সিংয়ের ভূমিকায় দ্বীপায়ন লস্করও নিজেদের চরিত্রকে যথাযথ মর্যাদা দিয়েছেন। নাটকের অন্যান্য শিল্পীরাও সমান নিষ্ঠায় অভিনয় করেছেন।মঞ্চে আলো বা সংলাপ পরিবেশনের ক্ষেত্রে কিছু ছোটখাটো ত্রুটি চোখে পড়লেও তা নাটকের আবেগকে স্পর্শ করতে পারেনি। বরং দর্শক বারবার ফিরে গিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই রক্তমাখা অধ্যায়ে, যেখানে ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল দেশের মুক্তি।তবে নাটকের শেষ দৃশ্যই যেন গোটা প্রযোজনার সেরা মুহূর্ত। আজকের কলকাতার ‘যতীন দাস পার্ক’ মেট্রো স্টেশনের ঘোষণাকে নাট্যভাষায় ব্যবহার করে নির্দেশক বুঝিয়ে দিয়েছেন, সময়ের স্রোত যতই এগিয়ে যাক না কেন, বাঙালির স্মৃতি ও মননের গভীরে যতীন দাস আজও সমানভাবে জীবন্ত। সেই মুহূর্তে মঞ্চ আর ইতিহাসের ব্যবধান যেন মিলিয়ে যায় একাকার হয়ে।