বালুরঘাট : মহাভারতকে অবলম্বন করে যুগ যুগ ধরে কবি-সাহিত্যিকরা তাঁদের সৃষ্টিতে তুলে ধরেছেন মহাকাব্যের বিভিন্ন চরিত্রকে। অর্জুনের বীরত্ব কিংবা কর্ণের জীবনযন্ত্রণা ও বঞ্চনার কাহিনি বারবার উঠে এসেছে সাহিত্য ও শিল্পের নানা মাধ্যমে। কিন্তু মহাভারতের অন্যতম প্রধান চরিত্র দ্রৌপদী বা কৃষ্ণার নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া, আকাঙ্ক্ষা, কষ্ট, বিরহ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব সেইভাবে কতটা সামনে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সেই জায়গা থেকেই দ্রৌপদীকে নতুন করে দেখার চেষ্টা করেছেন বালুরঘাটের নবীন নাট্য নির্দেশক সায়ন্তনী চক্রবর্তী।
শনিবার সন্ধ্যায় নাট্যতীর্থের নাট্য উৎসবে মঞ্চস্থ হল নাট্যদল দৃশ্যকল্প প্রযোজিত সায়ন্তনীর নির্দেশনায় ‘স্বয়ম্ভুতার কৃষ্ণা’। মধুবনী চট্টোপাধ্যায়ের ‘দ্রৌপদীর স্বয়ম্ভুতার জীবনচরিত’ প্রবন্ধগ্রন্থ এবং বুদ্ধদেব বসুর ‘প্রথম পার্থ’ কাব্যনাট্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নাটকটি লিখেছেন সায়ন্তনী। সহকারী নির্দেশক হিসেবে ছিলেন সুমন ভৌমিক।
নাটকে সূত্রধারের ভূমিকায় সারদা দাস ছিলেন সাবলীল। কর্ণের চরিত্রে সুমন ভৌমিক, অর্জুনের ভূমিকায় সৌমেন পাল এবং কৃষ্ণের চরিত্রে প্রতাপ বিশ্বাস নিজেদের অভিনয়ে নজর কাড়েন। অল্প সময়ের উপস্থিতিতেও ভীমসেনের চরিত্রে তন্তু দাস ভালো অভিনয় করেছেন। নেপথ্যে থেকে নাটকের আবহ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সোমদত্তা চক্রবর্তী।
তবে নাটকের মূল আকর্ষণ এবং কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন দ্রৌপদীর চরিত্রে পূর্বা দাস। চরিত্রটির আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, কষ্ট ও মানসিক টানাপোড়েনকে নিজের অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলতে সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর অভিনয়েই যেন মহাভারতের পরিচিত দ্রৌপদীর আড়ালে থাকা এক অন্য কৃষ্ণাকে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন দর্শকরা। নাটকের প্রতিটি চরিত্রও মূল চরিত্রকে সমানভাবে সঙ্গত করেছে।
উল্লেখ্য, নাট্যতীর্থের দু’দিনের এই নাট্য উৎসবে ২৯ ও ৩০ আগস্ট মোট চারটি নাটক পরিবেশিত হয়। বালুরঘাটের নাট্যমোদী দর্শকদের মতে, এই নাটকের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন নতুন এক নির্দেশকের আত্মপ্রকাশ ঘটল, তেমনই অনেকদিন পর একটি নারী-কেন্দ্রিক নাটকও দর্শকদের মন ছুঁয়ে গেল। আর সেই অনুভূতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে রইলেন পূর্বা দাসের দ্রৌপদী।