বালুরঘাটে একাই মঞ্চ কাঁপালেন সৌমেন পাল, একক অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক

নিজস্ব সংবাদদাতা,বালুরঘাট: নাটকের শহর বালুরঘাটে নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা উঠে আসছেন না, এমন আক্ষেপ শোনা যায় নাট্যপ্রেমীদের একাংশের মুখে। সেই ধারণাকে যেন নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল দক্ষিণ দিনাজপুরের নাট্যসংস্থা ‘দৃশ্যকল্প’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। রবিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে একক অভিনয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করলেন তরুণ নাট্যশিল্পী সৌমেন পাল।
অনুষ্ঠানে প্রথমে পরিবেশিত হয় ভাষ্যনাট্য ‘নাটক সবার জন্য’। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কর্ণ-কুন্তী সংবাদ’ অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘আমি সেই কর্ণ’। এতে অভিনয় করেন মৃন্ময় মণ্ডল ও নীলিমা সাহা সরকার।
তবে সন্ধ্যার মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে শুভাশিস চক্রবর্তীর নির্দেশনায় সৌমেন পালের একক নাটক ‘আমার একটা গল্প বলার ছিল’। একটি কাল্পনিক কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকে একাই একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। কখনও শিশু, কখনও মা-বাবা, আবার কখনও অন্য চরিত্রের আবেগ ও স্বরভঙ্গি ফুটিয়ে তুলে দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ ধরে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখেন। নাটকে উচ্চবিত্ত সমাজের নিপীড়নে একটি পরিবারের ধ্বংস এবং সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক যুবকের প্রতিশোধের কাহিনি উঠে আসে।
বালুরঘাটের নাট্যঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মন্মথ রায়, হরিমাধব মুখোপাধ্যায়, জিষ্ণু নিয়োগী ও মনোজ গাঙ্গুলির মতো নাট্যব্যক্তিত্বদের নাম। সেই ঐতিহ্য যে এখনও নতুন প্রজন্মের হাতে বহমান, এদিনের মঞ্চ যেন তারই ইঙ্গিত দিল।
নাটক শেষে সৌমেন পাল বলেন, “আমার নাট্যনির্দেশক শুভাশিসদার নির্দেশনাতেই এই নাটকটি মঞ্চস্থ করতে পেরেছি। তিনি আমার উপর যে ভরসা রেখেছিলেন, তা রাখতে পেরেছি বলেই ভালো লাগছে। শুরুতে কিছুটা ভয় ছিল। তবে আলোকশিল্পী, বাদ্যশিল্পী এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *