কৃষকের ঘরে ঘরে বার্তা পৌঁছতেই ‘বুথ চলো’: দক্ষিণ দিনাজপুরে কিষান ক্ষেতমজুর তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:
রাজ্যের কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির একের পর এক প্রকল্পকে আরও জোরালোভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে পাখির চোখ রেখে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে কিষান ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বুথ চলো’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এলেন সংগঠনের রাজ্য কনভেনার মানস দাস।এদিন বালুরঘাটে পৌঁছনোর সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য নেতৃত্বকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে তৃণমূলের অন্দরমহলে। বালুরঘাট রেল স্টেশনে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কিষান ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি শাহেনশা মোল্লার নেতৃত্বে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা রাজ্য কনভেনারকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ‘মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ’, ‘কিষান ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেস জিন্দাবাদ’, ‘পূর্ণেন্দু বসু জিন্দাবাদ’—এই স্লোগানে স্টেশন চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে।বালুরঘাট স্টেশনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মানস দাস জানান, সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব পূর্ণেন্দু বসুর নির্দেশেই তিনি দক্ষিণ দিনাজপুরে এসেছেন। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির মা-মাটি-মানুষের সরকার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নের জন্য যে সমস্ত কর্মসূচি নিয়েছে, তা রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যেই ‘বুথ চলো’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শুধু সরকারি প্রকল্পের প্রচারই নয়, কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হবে। বুথ স্তরে গিয়ে কর্মী-সমর্থকেরা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলবেন, তাঁদের সমস্যার কথা শুনবেন এবং সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এই কর্মসূচিকে সফল করতেই তাঁর এই সফর বলে জানান মানস দাস।জেলা সভাপতি শাহেনশা মোল্লার ডাকে সাড়া দিয়ে যতটা সম্ভব বেশি সংখ্যক বুথে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান রাজ্য কনভেনার। তাঁর দাবি, জেলার গ্রামাঞ্চলে এই কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘বুথ চলো’ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন আরও মজবুত ভিত পাবে।কিষান ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন ব্লক ও বুথে এই কর্মসূচি চলবে। মাঠে-ময়দানে নেমে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই যে এবার সংগঠনের মূল কৌশল, তা এদিনের কর্মসূচি থেকেই স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *