নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট, ২৩ ফেব্রুয়ারি:রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে ফর্ম পূরণ ঘিরে রাজ্যজুড়ে উৎসাহ তুঙ্গে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে উপভোক্তাদের ১৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ফর্ম ফিলাপ শিবির।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতি অফিস চত্বরে চলা শিবিরে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন বহু মানুষ। শুধু সাধারণ আবেদনকারীরাই নন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে দেখা গেল পঞ্চায়েত সমিতির জনপ্রতিনিধিদেরও।সোমবার দুপুরে শিবিরে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপ সরকার নিজে একটি হেল্প ডেস্কে বসে আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষরাও একইভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে মাটিতে বসেই সাধারণ মানুষের ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছেন বলে জানা যায়।সভাপতি অরূপ সরকার জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিধানসভাভিত্তিক ‘যুব সাথী’ শিবিরের আয়োজন হয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ভূমিহীন কৃষকদের ভাতা সহ একাধিক প্রকল্পের ফর্মও নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই এই শিবিরে আসছেন এবং বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ছে। সেই কারণেই একাধিক হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে।পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান কর্মাধ্যক্ষ কল্পনা কিস্কু বলেন, যুব সাথী ও ভূমিহীন কৃষক ভাতা— দুই প্রকল্পের আবেদনকারীদের সহায়তা করতেই তাঁরা উপস্থিত রয়েছেন। বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, বিরোধিতা করা তাদের স্বভাব, কিন্তু সাধারণ মানুষ সব দেখছেন এবং সময়মতো তার জবাব দেবেন।বালুরঘাট ব্লক তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতিও জানান, প্রথম দিন থেকেই তাঁরা বিভিন্ন ডেস্কে বসে সাধারণ মানুষের সহায়তা করছেন। বিরোধীদের কটাক্ষের প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, যারা সমালোচনা করছেন, তারাও এবং তাঁদের পরিবাররাও এসে ফর্ম পূরণ করছেন।সব মিলিয়ে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প ঘিরে বালুরঘাটে রাজনৈতিক তরজা যেমন রয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো।