নিজস্ব সংবাদদাতা, ১৩ মার্চ, বালুরঘাট:- এক রাতের শিলাবৃষ্টি আর দমকা হাওয়াতেই খুলে পড়ল সদ্য বসানো ফলস সিলিং। আর তাতেই ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় সংস্কার হওয়া বালুরঘাট রেলস্টেশনকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা। একইসঙ্গে সরব হয়েছে রেলযাত্রী কল্যাণ সমিতিও। নির্বাচনের মুখে ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে শহরে।অভিযোগ, মাত্র এক মাস আগেই স্টেশনের প্রবেশপথে নতুন ফলস সিলিং বসানো হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার পর সেই সিলিংয়ের একাংশ খসে পড়ে।

শুক্রবার সকালে স্টেশনে এসে যাত্রীরা বিষয়টি লক্ষ্য করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। শুরু হয় প্রশ্নের ঝড়। প্রায় দু’বছর আগে ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের আওতায় বালুরঘাট রেলস্টেশনে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হয়। স্টেশনের সামনে রাস্তা চওড়া করা, ভেতরে এসকালেটর ও লিফট বসানো, সৌন্দর্যায়ন এবং নতুন ভবন নির্মাণ—সব মিলিয়ে বড়সড় সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। রেল উন্নয়ন সমিতির দাবি, ভবন নির্মাণ ও সফট আপগ্রেডেশন মিলিয়ে প্রায় ৫ কোটি ২১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন এলাকার একাংশ। একলাখি–বালুরঘাট রেলযাত্রী কল্যাণ ও সমাজ উন্নয়ন সমিতির চেয়ারম্যান স্মৃতিস্বর রায়ের অভিযোগ, ফলস সিলিংগুলো খুব হালকা ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছিল। তার উপর শুধু রং করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আগেই রেলের বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। দু’বার পরিদর্শনও হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনও পরিবর্তন হয়নি। জনগণের টাকায় এভাবে অপচয় হচ্ছে।

স্টেশনে আসা যাত্রী গৌরাঙ্গ গাইন ও অমিত সরকারের কথায়, সামান্য ঝড়েই যদি সিলিং খুলে পড়ে, তাহলে কাজের মান কেমন হয়েছে তা বোঝাই যাচ্ছে। এর পিছনে দুর্নীতি না থাকলে এমন হওয়ার কথা নয়। দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের বালুরঘাট টাউন সভাপতি সুভাষ চাকীর অভিযোগ, অমৃত ভারত প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা খরচের কথা বলা হচ্ছে। অথচ এক মাসের মধ্যেই সিলিং ভেঙে পড়ছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কাজ কতটা নিম্নমানের হয়েছে। যদিও বিজেপির বালুরঘাট টাউন সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্তের দাবি, স্টেশনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেই সিলিংয়ের অংশ খুলে পড়েছে। কাজ শেষ হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে যাত্রীদের একাংশের প্রশ্ন, যদি সামান্য ঝড়েই ‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পের এই দশা হয়, তবে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় কী হবে? সেই প্রশ্নেই এখন সরগরম ।