নিজস্ব সংবাদদাতা,বালুরঘাট :কথায় আছে, বয়স কেবলই সংখ্যা, আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে ইচ্ছের গভীরে। সেই কথাই বাস্তবে প্রমাণ করে দিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের আমবাগান এলাকার গৃহবধূ শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তী। মাত্র ২৯ বছর বয়সে সংসার, সন্তান আর সমাজের চোখরাঙানি পেরিয়ে রাজ্য মঞ্চে নিজের শক্তির ছাপ রাখলেন তিনি।
গত ১৮ জানুয়ারি কলকাতার বাঙুরে অশোক আখাড়া এক ব্যায়াম মন্দিরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত রাজ্য স্তরের পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতায় ৬৫ কেজি বিভাগে ডিপ স্কোয়াট ও ডেডলিফট—দুই বিভাগেই প্রথম স্থান অধিকার করেন শর্মিষ্ঠা। পাশাপাশি বিশেষ পদকও জোটে তাঁর ঝুলিতে। গোটা রাজ্যের ৫০ থেকে ৬০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে নিজের বিভাগে ২০ জনেরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পিছনে ফেলে এই সাফল্য এনে দক্ষিণ দিনাজপুরকে গৌরবান্বিত করলেন তিনি।
এই পথচলার শুরুটা কিন্তু সহজ ছিল না। ২০১৬ সালের দিকে ওজন বেড়ে যাওয়ায় নানা কটুক্তির মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সেই সময় দাদা সুরজিৎ চক্রবর্তীর অনুপ্রেরণাতেই ব্যায়াম শুরু। প্রথমে সাধারণ এক্সারসাইজ, পরে ধীরে ধীরে ঝোঁক বাড়ে ওয়েট লিফটিংয়ের দিকে। ছয় বছরের এক সন্তানকে সামলে, ঘরের সব দায়িত্ব পালন করেই নিজের স্বপ্নের পিছনে ছুটে চলেছেন শর্মিষ্ঠা।
প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে শর্মিষ্ঠা বলেন, “৬৫ কেজি বিভাগে ডিপ স্কোয়াট ও ডেডলিফট পাওয়ার লিফটিংয়ে অংশ নিয়েছিলাম। দুই বিভাগেই গোল্ড মেডেল পেয়েছি। সংসার সামলে এই খেলাকে পেশা হিসেবে নেওয়া সহজ নয়, কিন্তু আমি এই খেলাটাকে ভালোবাসি। তাই সব অসুবিধাকে জয় করেই এগিয়ে চলেছি।”
আশপাশের গৃহবধূদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “নিজেকে ছোট করে দেখবেন না। গৃহবধূ মানেই পিছিয়ে থাকা নয়। যেটাকে ভালোবাসেন, সেটাকেই আঁকড়ে ধরুন—সাফল্য একদিন আসবেই।”
শর্মিষ্ঠার দাদা সুরজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “একসময় ওর ওজন বেড়ে যাওয়ায় লোকে হাসাহাসি করত। দীপালী নগর মাঠেই প্রথম ওকে ব্যায়ামের দিকে নিয়ে আসি। আজ সেই ভালোবাসা আর পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য। দাদা হিসেবে তো বটেই, একজন জেলা বাসিন্দা হিসেবেও আমি গর্বিত।”
সংসারের চার দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে শক্তির নতুন সংজ্ঞা গড়ে দিলেন বালুরঘাটের এই গৃহবধূ। শর্মিষ্ঠা চক্রবর্তীর গল্প যেন বলেই দেয়—ইচ্ছের জোর থাকলে লোহাও নরম হয়।