নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:“সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ” কর্মসূচিকে আরও বেশি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বছরের শেষ দিনে বালুরঘাট শহরে আয়োজন করা হল এক বিশাল ম্যারাথন দৌড়। “রান ফর অ্যাওয়ারনেস” নামাঙ্কিত এই ম্যারাথনকে ঘিরে রবিবার সকাল থেকেই ছিল উৎসবের আবহ।
নারী ও পুরুষ—দু’টি বিভাগ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয় দৌড়ের রাস্তাঘাট।জানা গেছে, ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ম্যারাথন দৌড়ে প্রতিযোগীদের জন্য রাখা হয়েছিল আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা। পুরুষ ও মহিলা—দু’টি বিভাগেই প্রথম স্থানাধিকারীকে ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থানাধিকারীকে ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থানাধিকারীকে ১০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ট্রফি। শুধু প্রথম তিনজনই নন, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী পরবর্তী সাতজনকেও ২ হাজার টাকা করে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

এই ম্যারাথনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সড়ক নিরাপত্তা ও নিরাপদ ড্রাইভিং সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে “সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ”-এর বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল জেলা পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। দৌড়ের রাস্তাজুড়ে প্রতিযোগীদের উদ্দীপনা, উৎসাহ ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি নজর কাড়ে। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ দৌড়বিদদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও বর্ণিল।এদিনের এই সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলাশাসক বালা সুব্রামানিয়ান টি, জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল সহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগীদের মনোবল আরও বৃদ্ধি পায় বলে মত অংশগ্রহণকারীদের।এই প্রসঙ্গে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, প্রতিবছর সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বছরের শেষ দিনে এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। এ বছরও পুরুষ ও মহিলা বিভাগ মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছেন। ১০ কিলোমিটারের এই ম্যারাথনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পাশাপাশি পরবর্তী সাতজনকে সান্ত্বনা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।নতুন বছরের প্রাক্কালে স্বাস্থ্য, সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা নিয়ে এই ম্যারাথন দক্ষিণ দিনাজপুরে এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলেই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।