‘উন্নয়নের কান্ডারী’ প্রচার, অথচ পৌরসভায় অনুপস্থিত চেয়ারম্যান—অনাস্থার জেরে বালুরঘাটে পরিষেবা অচল

নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:
বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর থেকেই কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পৌর পরিষেবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক। অভিযোগ, অনাস্থার আবহে চেয়ারম্যান নিয়মিত পৌরসভায় না আসায় চরম সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ পৌরবাসী। শহর জুড়ে ক্রমশ বাড়ছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।জানা গেছে, বিভিন্ন স্কুলের স্কলারশিপ সংক্রান্ত নথিতে চেয়ারম্যানের সই অপরিহার্য। কিন্তু চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সেই সই না মেলায় বহু পড়ুয়া ও অভিভাবক সমস্যায় পড়েছেন। শুধু তাই নয়, পৌরসভার একাধিক বিল চেয়ারম্যানের সইয়ের অভাবে আটকে থাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ।এদিকে, এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চেয়ারম্যানের অনুগামীদের একাংশ তাঁকে‘বালুরঘাটের উন্নয়নের কান্ডারী’ বলে প্রচার চালাচ্ছেন। আর সেই প্রচার ঘিরেই তীব্র কটাক্ষ শুরু হয়েছে শহরবাসীর মধ্যে।বালুরঘাট পৌর এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কবিতীর্থ পাড়া এলাকার বাসিন্দা শঙ্কু রায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন,“চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আসতেই তিনি পৌরসভায় আসছেন না। অথচ সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নথিতে তাঁর সই দরকার। আমরা কোথায় যাব? সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছি ওঁকে উন্নয়নের কান্ডারী বলা হচ্ছে। যদি সত্যিই তিনি উন্নয়নের কান্ডারী হন, তাহলে কেন পৌরসভায় এসে মানুষের সমস্যার সমাধান করছেন না?”বিষয়টি নিয়ে বালুরঘাট পৌরসভার বাম কাউন্সিলর প্রবীর দত্ত বলেন,“বালুরঘাট একটি ঐতিহ্যপূর্ণ শহর। এই পৌরসভায় মহারাজ বোস, দীপঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিত্বরা চেয়ারম্যান ছিলেন এবং দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেছেন। আজ সেই চেয়ার ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ। বালুরঘাটের মানুষ অনেক আশা নিয়ে এই বোর্ডকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলেই আমার মনে হয়।”অন্য বাম কাউন্সিলর কুন্তল দাস জানান,“এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে একটি চিঠি এসেছে, যেখানে ১৪ জন কাউন্সিলর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। চেয়ারম্যান পৌরসভায় না আসায় বিল থেকে শুরু করে স্কলারশিপ—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি কাউকে দায়িত্ব না দিয়েই অনুপস্থিত রয়েছেন। আমরা এসডিও-র সঙ্গে দেখা করে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানাব।”এ বিষয়ে বালুরঘাট পৌরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্রের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অনাস্থা আনা কাউন্সিলরদের মধ্যে এমসিআইসি মহেশ পারখ ও প্রদিপ্তা চক্রবর্তীর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের ফোন বন্ধ থাকায় কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *