দক্ষিণ দিনাজপুরে অবৈধ অনুপ্রবেশের সাজা: বাংলাদেশি নাগরিক ও আশ্রয়দাতাকে দোষী সাব্যস্ত ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে

নিজস্ব সংবাদদাতা,বালুরঘাট:
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনের অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাকে আশ্রয় দেওয়ার দায়ে এক ভারতীয় নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। সোমবার বিকেলে বিচারক অনিল কুমার কুশবা অভিযুক্ত দু’জনের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেন। সীমান্তবর্তী এই জেলায় অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত মামলায় এই রায়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবী মহল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকের নাম রবিউল ইসলাম (২৯)। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার দণ্ডপানি এলাকায়। অপর অভিযুক্ত খাইরুল মণ্ডল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ থানার অন্তর্গত জাকিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুসরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, রবিউল ইসলাম কোনও বৈধ ভিসা বা পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং খাইরুল মণ্ডল তাঁকে আত্মীয় পরিচয়ে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন।ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে খাইরুল মণ্ডলের বাড়ি থেকে রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, তাঁর কাছে ভারতে প্রবেশের কোনও বৈধ নথি নেই। এরপরই দু’জনকে গ্রেফতার করে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পেশ করা হয়।দীর্ঘদিন ধরে মামলার শুনানি চলার পর সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করে। সরকারি আইনজীবী ঋতব্রত চক্রবর্তী জানান, বিচারক রবিউল ইসলামকে দু’বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আশ্রয়দাতা খাইরুল মণ্ডলকে দু’বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে।
সরকারি পক্ষের হয়ে এই মামলাটি লড়েছেন সহকারী সরকারি আইনজীবী দেবাশীষ কর্মকার। আইনজীবী মহলের মতে, সীমান্তবর্তী দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় অনুপ্রবেশ ও আশ্রয় দেওয়ার ঘটনায় এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। প্রশাসনিক মহলও মনে করছে, এই ধরনের কঠোর রায় ভবিষ্যতে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *