নিজস্ব সংবাদদাতা, কুশমণ্ডি: ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত’ গড়ার ডাক দিয়ে অন্ধকার কাটাতে মোমবাতি হাতে পথে নামলেন গ্রামবাসীরা। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডি ব্লকের বাগদুমা গ্রামে আয়োজিত এক সচেতনতা শিবিরে এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করার অঙ্গীকার নেওয়া হল। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং ‘শক্তি বাহিনী’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন কয়েকশো গ্রামবাসী।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাকে বাল্যবিবাহের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে গত ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে ১০০ দিনের এক বিশেষ অভিযান। আগামী বছরের ৮ মার্চ পর্যন্ত এই প্রচার চলবে। এরই অঙ্গ হিসেবে বাগদুমায় আয়োজিত এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন উদয়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য অমল সরকার এবং শক্তি বাহিনীর প্রতিনিধি স্বরূপ বসাক ও রুকসানা পারভিন।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ কেবল একটি আইনি অপরাধ নয়, এটি একটি মেয়ের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথে প্রধান অন্তরায়। তাই শিক্ষার প্রসার এবং আইনি সচেতনতার পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীরা ছাড়াও কিশোর-কিশোরীরা ভিড় জমিয়েছিলেন। আলোচনার শেষে সকলেই সমস্বরে শপথ নেন— এই গ্রামে আর কোনও নাবালিকার বিয়ে হতে দেবেন না তাঁরা। সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই হাতে মোমবাতি নিয়ে গ্রামে এক মৌন মিছিল বের করা হয়।
শক্তি বাহিনীর জেলা কো-অর্ডিনেটর মিজানুর রহমান জানান, আগামী ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে জেলার ৫০টি গ্রাম সংসদকে ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কুশমণ্ডি ব্লকের উদয়পুর পঞ্চায়েতের ২৫টি এবং কুমারগঞ্জ ব্লকের রামকৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের ২৫টি গ্রাম সংসদ রয়েছে। মধ্য রামকৃষ্ণপুর গ্রামীণ উন্নয়ন সমিতি ও শক্তি বাহিনীর কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও এই প্রচার চালাচ্ছেন। সমগ্র কর্মসূচিটি পরিচালনায় স্বরূপ বসাক, দেবু সরকার এবং চন্দনা সরকাররা বিশেষ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।