নতুন বছরে বালুরঘাটে ‘ফুড প্লাজা জোন’: আধুনিক শহরের স্বাদ ও আলোয় সেজে উঠছে ১২ নম্বর ওয়ার্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা , বালুরঘাট :
নতুন বছরের শুরুতেই শহরবাসীর হাতে এক ঝাঁক উপহার তুলে দিতে চলেছে বালুরঘাট পুরসভা। আধুনিক শহরের আদলে গড়ে উঠছে এক অভিনব ‘ফুড প্লাজা জোন’। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি এই ফুড প্লাজার ডেমো ভিডিও মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে পুরসভা। ভিডিওতেই স্পষ্ট— আলো, রঙ, নকশায় বদলে যেতে চলেছে শহরের পরিচিত এক গলি।শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে, জেলাশাসকের দপ্তরের উলটো দিকের গলিটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। পুরসভা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে দ্রুতগতিতে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের প্রথম দিনেই এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শহরবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হবে এই ফুড প্লাজা জোন।পুরসভা সূত্র জানাচ্ছে, ফুড প্লাজা জোনের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে গোটা রাস্তাটিই সাজানো হবে বিশেষ এলইডি আলোয়। সন্ধ্যা নামলেই আলো-ছায়ার খেলায় অন্য রূপ নেবে এলাকা। এই জোনে থাকছে প্রায় ৩০টি খাবারের দোকান। থানা মোড় ও তার আশপাশের যেসব খাবারের দোকান ইতিমধ্যেই তালিকাভুক্ত, তারাই স্থান পাবে নতুন এই ফুড প্লাজা জোনে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্যও খুলছে নতুন সম্ভাবনার দরজা।খাবারের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মানুষের বসার ও আড্ডার জায়গাকেও। হাইস্কুল মাঠের পাশ-সহ গোটা রাস্তার একপাশ জুড়ে থাকবে বসার সুব্যবস্থা। পরিবার নিয়ে, বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা অফিস ফেরত মানুষ— সকলের জন্যই এখানে থাকবে খানিকটা স্বস্তির সময় কাটানোর পরিসর।এই ফুড প্লাজা জোনের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ‘পৌর সংবাদ কক্ষ’ ও ‘নাট্য সংবাদ কক্ষ’। পৌর সংবাদ কক্ষে তুলে ধরা হবে বালুরঘাট পুরসভার বিভিন্ন ইতিবাচক কাজ ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথা। অন্যদিকে, নাট্য সংবাদ কক্ষে ফুটে উঠবে নাটকের শহর হিসেবে পরিচিত বালুরঘাটের সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও সাম্প্রতিক নাট্যচর্চার নানা দিক। এর পাশাপাশি গোটা এলাকার সৌন্দর্যায়নের জন্য লাগানো হবে বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ।বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র জানিয়েছেন, “মডেল শহরের আদলে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটিকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। ‘ফুড প্লাজা জোন’ নামেই এই এলাকা পরিচিত হবে। বড় শহরের মতো পরিকাঠামো ও পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য। নতুন বছরের উপহার হিসেবে শহরবাসীর হাতে এটি তুলে দিতে চাই।”সব মিলিয়ে, নতুন বছরে বালুরঘাটের মানচিত্রে যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন ঠিকানা— যেখানে খাবার, আলো, সংস্কৃতি ও শহুরে স্বাদ মিলেমিশে এক আধুনিক অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *