বালুরঘাট: নাটকের শহর বালুরঘাটের জন্য এ এক গর্বের মুহূর্ত। বালুরঘাটের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব হরি মাধব মুখোপাধ্যায়কে মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা হতেই খুশির হাওয়া শহর জুড়ে। রাজ্য ও জাতীয় স্তরে নাট্যচর্চায় তাঁর অনন্য অবদান অবশেষে স্বীকৃতি পেল দেশের সর্বোচ্চ স্তর থেকে, যদিও তা মরণোত্তর।এর আগেও একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছিলেন হরি মাধব মুখোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভূষণ পুরস্কার যেমন তিনি পেয়েছেন, তেমনই সাহিত্য আকাদেমির তরফেও নাট্য জগতে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি মিলেছিল। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় তাঁকে সম্মান জানানো হয়েছে।নাট্যপ্রেমীদের মনে আজও জীবন্ত তাঁর অভিনীত নাটকগুলি। ‘দেবীগর্জন’, ‘দেবাংশী’ সহ একাধিক নাটক রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। গত বছর এই নাট্য পুরুষের প্রয়াণে শূন্যতা নেমে এসেছিল বালুরঘাটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে।খবর প্রকাশ্যে আসতেই আবেগে ভেসেছেন স্থানীয় নাট্যকর্মীরা। বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মনোজ গাঙ্গুলীর কথায়, “হরি মাধব মুখোপাধ্যায় আমাদের কাছে একজন আইডল। তাঁর নাটক দেখেই আমরা বড় হয়েছি। বালুরঘাটের নাট্য জগতের একজন স্তম্ভ ছিলেন তিনি। পদ্মশ্রী সম্মানের খবর পেয়ে আমরা সত্যিই খুব খুশি।”একই সুর শোনা গেল বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ীর গলায়। তিনি বলেন, “আজ বালুরঘাটবাসীর কাছে অত্যন্ত গৌরবের দিন। বিধায়ক হিসেবে আমিও গর্বিত। ঘোষপাড়ার আমাদের হরি মাধব বাবু পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হচ্ছেন, এটা বিশাল প্রাপ্তি। যদিও তিনি গত বছর আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তবু তাঁর কাজের স্বীকৃতি জাতীয় স্তরে পাওয়া বালুরঘাটের জন্য বিরাট সম্মান।”নাটকের শহর বালুরঘাট আজ গর্ব করে বলতে পারে, তাদের হরি মাধব মুখোপাধ্যায় পদ্মশ্রী প্রাপক। অভিনয়, নিষ্ঠা আর সাংস্কৃতিক সাধনার যে উত্তরাধিকার তিনি রেখে গেছেন, তা আগামী প্রজন্মের পথচলার প্রেরণা হয়েই থাকবে।