নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট :মঞ্চে তখন জমজমাট পরিবেশ। একের পর এক মনকাড়া গানে দর্শকদের মাতিয়ে তুলছেন শিল্পী। কখনও প্রবল হাততালি, কখনও গানের তালে তালে দর্শকদের হাততালিতে ছন্দ। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষজনও মুগ্ধ। মঞ্চে শিল্পীর সঙ্গে সঙ্গত দিচ্ছেন মাত্র দু’জন যন্ত্রশিল্পী। তাতেই যেন পূর্ণতা পাচ্ছে আসর।ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে গেলে দেখা যায়, মঞ্চের শিল্পী আর কেউ নন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ডিএসপি হেডকোয়ার্টার বিক্রম প্রসাদ। যিনি পেশায় কঠোর পুলিশ কর্তা, অপরাধ দমনে যাঁর নামেই কেঁপে ওঠে দুষ্কৃতীরা, সেই মানুষটাই এদিন গানে গানে মন জয় করলেন বালুরঘাটবাসীর।বালুরঘাট শহরে সংকেত ক্লাবের উদ্যোগে চলছে দশ দিনের পিঠেপুলি উৎসব। উৎসবকে ঘিরে শান্তিনিকেতনের আদলে বসেছে মেলা। এসেছে শান্তিনিকেতনের নানা দোকান, বাউল শিল্পীরাও। এই উৎসব প্রাঙ্গনেই নিজেদের প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে বালুরঘাটের সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তাক্ষর সাহিত্য স্রোত। সেখানে বই কেনাবেচার পাশাপাশি চলছে সাহিত্যচর্চা ও আড্ডা।এই প্যাভিলিয়নেই প্রায়শই সন্ধ্যাবেলা হাঁটতে বেরিয়ে আসেন ডিএসপি বিক্রম প্রসাদ। সাহিত্য নিয়ে আলোচনা, শিল্পচর্চার আড্ডায় নিয়মিত অংশ নেন তিনি। সেই আড্ডার মধ্যেই মুক্তাক্ষর সাহিত্য স্রোতের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে আবদার রাখা হয়, একদিন যেন তাঁদের প্যাভিলিয়নে সংগীত পরিবেশন করেন। সেই আবদারই রাখলেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে উৎসব প্রাঙ্গনে গান শোনালেন এই পুলিশ কর্তা।মুক্তাক্ষর সাহিত্য স্রোতের সম্পাদক দেবাশীষ অধিকারী বলেন, “ডিএসপি সাহেব পুলিশ কর্তা হিসেবে কেমন, তা প্রশাসন জানে। কিন্তু মানুষ হিসেবে তিনি অত্যন্ত সাহিত্যপ্রেমী ও শিল্পমনস্ক। একজন ভালো সংগীতশিল্পীও বটে। প্রতিদিন আমাদের প্যাভিলিয়নে এসে আমাদের সঙ্গে আড্ডা দেন। সেই থেকেই তাঁর কাছে আবদার করেছিলাম। আজ তিনি আমাদের সেই আবদার রেখেছেন। আমরা নিজেদের সত্যিই সৌভাগ্যবান মনে করছি।”সংকেত ক্লাবের উদ্যোগে এই ধরনের পিঠেপুলি ও শান্তিনিকেতন-স্টাইলের মেলা এবং ডিএসপি বিক্রম প্রসাদের মতো একজন শিল্পমনস্ক পুলিশ কর্তাকে পাশে পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মুক্তাক্ষর সাহিত্য স্রোত। উৎসবের ভিড়ে এদিন তাই আইনরক্ষকের গানে আরও একবার প্রমাণ হল, উর্দির আড়ালেও লুকিয়ে থাকে শিল্পীর মন।