নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট :নলেন গুড় মানেই শীতের স্বাদ আর বাংলার ঐতিহ্য। সেই নলেন গুড়ই এবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম এলাকার মাঝিয়ান কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই অভিনব প্রকল্প।মাঝিয়ান কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র চত্বরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক খেজুর গাছ। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের অধীনে প্রায় ২৫০টিরও বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। তার মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১০০টিরও বেশি খেজুর গাছকে বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যমে রস সংগ্রহের আওতায় আনা হয়েছে। সংগৃহীত রস সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিণত হচ্ছে উন্নতমানের নলেন গুড়ে।উদ্যোক্তাদের দাবি, এই পদ্ধতিতে তৈরি নলেন গুড় বাজারে প্রচলিত সাধারণ গুড়ের তুলনায় অনেক বেশি পরিষ্কার, স্বাস্থ্যসম্মত এবং গুণগত মানে উৎকৃষ্ট। পাশাপাশি কোনও ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে না বলেও জানানো হয়েছে।এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন খেজুর চাষ ও গুড় শিল্পের উন্নয়ন ঘটছে, তেমনই স্থানীয় মানুষের জন্য তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার দিকেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের।মাঝিয়ান কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্প্রসারণ অধিকর্তা প্রভাত কুমার পাল জানান, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলির অধীনে থাকা জমির সঠিক ব্যবহার ও কৃষকদের স্বার্থেই এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অব্যবহৃত জমি চাষের আওতায় আনার পাশাপাশি খেজুর গাছের রস থেকে উন্নতমানের গুড় তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে।অন্যদিকে, প্রকল্পে যুক্ত এনজিওর আধিকারিক শুভাশিস সরকার জানান, এটি একটি পাইলট প্রজেক্ট। প্রতিটি খেজুর গাছকে নম্বর দিয়ে রসের মান নিয়মিত নথিভুক্ত করা হচ্ছে। লক্ষ্য একটাই—সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত, উন্নতমানের নলেন গুড় বাজারে তুলে ধরা।