নিজস্ব সংবাদদাতা,বালুরঘাট :তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের ঘোষিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। দল ঘোষণার দিনই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন তিনি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় বংশীহারী ব্লকের ডিটোল এলাকার বাসিন্দা আহিদুর রহমানের নাম। কিন্তু সেই ঘোষণার পরই জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।অভিযোগ, আহিদুর রহমানের নামে ভারত ও বাংলাদেশ—দু’দেশেই একাধিক ভোটার কার্ড রয়েছে। সেই সংক্রান্ত নথি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। নথিতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের দু’টি ভোটার কার্ডে দু’টি আলাদা জন্মসাল—একটিতে ১৯৭২, অন্যটিতে ১৯৭৫। শুধু তাই নয়, ওই দু’টি পরিচয়পত্রে নামও আলাদা—একটিতে ফারুক খান, অন্যটিতে কৌশিক চক্রবর্তী। পাশাপাশি, ভারতবর্ষের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী ব্লকের এলাহাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার তালিকাতেও তাঁর নাম রয়েছে বলে দাবি।
এই সব তথ্য সামনে আসতেই জেলা জুড়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যাঁর বিরুদ্ধে ভারত ও বাংলাদেশের দু’দেশেই পরিচয়পত্র থাকার অভিযোগ, তাঁকে কীভাবে প্রার্থী করল সদ্য ঘোষিত এই নতুন দল?তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন আহিদুর রহমান। তাঁর দাবি, তিনি জন্মগতভাবেই ভারতের বাসিন্দা এবং তাঁর পূর্বপুরুষরাও এই এলাকারই মানুষ। সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর আগের সময়ে ব্যবসার কাজে সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ বাংলাদেশের যাতায়াত করতেন। ব্যবসার সূত্রেই তিনি সে সময় বাংলাদেশে গিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর।এদিকে, বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বংশীহারী ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি পার্থপ্রতিম মজুমদার। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ব্যক্তিগত কুৎসায় বিশ্বাসী নয়। তবে ওই ব্যক্তির একাধিক স্ত্রী থাকার কথা শোনা যাচ্ছে এবং তাঁদের মধ্যে একজন সরকারি ঘরও পেয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। তাঁর কথায়, “এলাকার মানুষ খুব সচেতন। যাঁরা সারা বছর তাঁদের সঙ্গে থাকেন, তাঁদেরকেই ভোট দেবেন। হুট করে কেউ দল খুলে প্রার্থী হলেই মানুষ তাঁকে ভোট দেবেন, এমন নয়।

“এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে বিজেপিও। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। যদি তা সত্যি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি তৃণমূলকেও আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, “হুমায়ুনের দল হোক বা তৃণমূল—দু’পক্ষের উদ্দেশ্য একই। তৃণমূল জনগণের কাছে প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে বলেই তারা নানা নামে সামনে আসছে। বাংলাদেশ থেকে লোক এনে এ দেশের নাগরিক বানানো ও প্রার্থী করা—এর মাধ্যমেই দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করা হচ্ছে।”নতুন দলের প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।