মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই প্রার্থনা শুরু হয়। বুধবার গভীর রাতে বিশেষ প্রার্থনা শেষ হলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফের ভক্তদের সমাগম শুরু হয়। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই প্রভুর আশীর্বাদ লাভের আশায় চার্চে উপস্থিত হন।এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার চলতি শীতের মধ্যে সবচেয়ে শীতল দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাপমাত্রা নেমে আসে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই সকাল থেকেই চার্চ চত্বরে ভিড় জমান বহু মানুষ। রঙিন আলো, ক্রিসমাস ট্রি, যীশুর জন্মদৃশ্যের মনোরম সাজে সেজে উঠেছে মাহিনগর ক্যাথলিক চার্চ। চারপাশ জুড়ে উৎসবের আবহ।প্রার্থনা সভায় ফাদার যীশুখ্রীষ্টের আত্মবলিদান, মানবকল্যাণ ও ভালোবাসার বাণী স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, শান্তি, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার মধ্য দিয়েই প্রভুর আদর্শকে বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব। প্রার্থনায় অংশ নিয়ে ভক্তরা বিশ্বশান্তি ও মানবজাতির মঙ্গল কামনা করেন।চার্চ সূত্রে জানা গেছে, সারাদিন ধরেই দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে। সেই কারণেই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার্চ ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি বড়দিন উপলক্ষে চার্চের আশপাশে ছোটখাটো মেলারও আয়োজন করা হয়েছে, যা বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট:সারাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরেও মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে যীশুখ্রীষ্টের জন্ম উৎসব—বড়দিন। বালুরঘাট মাহিনগর ক্যাথলিক চার্চে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড়। ২৫ ডিসেম্বরের বিশেষ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ভোরবেলা থেকেই খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী মানুষের ঢল নামে এই ঐতিহ্যবাহী চার্চে।এ বছর যীশুখ্রীষ্টের ২০২৫ তম জন্ম উৎসব হওয়ায় চার্চ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিশেষ প্রার্থনা ও আয়োজন করা হয়েছে।
প্রার্থনায় অংশ নেওয়া এক ভক্ত মিতালী সরেন বলেন, “প্রতিবছর বড়দিনে আমরা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এই চার্চে আসি। গতকাল রাতেও প্রার্থনা করেছি, আজ আবার এসেছি। সারাদিন আনন্দে কাটাবো।”আর এক ভক্ত সুচিত্রা মার্ডি জানান, “বড়দিনই আমাদের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎসব। প্রভুর কাছে শান্তির প্রার্থনা করব। বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া হবে, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করব।”প্রার্থনা, আনন্দ ও মিলনের আবহে বড়দিন আজ বালুরঘাটের খ্রিস্টধর্মাবলম্বী মানুষজনের কাছে হয়ে উঠেছে এক সর্বজনীন উৎসব।