নিজস্ব সংবাদদাতা, ১১ফেব্রুয়ারি, বালুরঘাট:- মাধ্যমিকের শেষ দিনে স্বস্তির হাসির বদলে রয়ে গেল অস্বস্তির ছাপ। জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষা শেষ হতেই বালুরঘাটের দুই পরীক্ষাকেন্দ্রে আচমকা ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল শহরে। অভিযোগ, নকলের চেষ্টায় কড়া নজরদারি নামাতেই ক্ষোভ উগরে দেয় কিছু পরীক্ষার্থী। বুধবার ঘটনাটি ঘটে আশুতোষ বালিকা বিদ্যাপীঠ ও নামাবঙ্গী হাইস্কুলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরীক্ষা চলাকালীন টুকলির একাধিক চেষ্টা ভেস্তে দেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কেন্দ্রের বাথরুম ও বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় নকলের কাগজ। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই আচমকা উত্তেজনা চরমে ওঠে বলে অভিযোগ। আশুতোষ বালিকা বিদ্যাপীঠে এদিন তারণচন্দ্র হাইস্কুল ও বিএম হাইস্কুলের প্রায় ৩৩ জন পরীক্ষার্থীর আসন পড়েছিল। অভিযোগ, পরীক্ষা শেষে কয়েকটি ফ্যানের পাখা ও ইলেকট্রিক বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়। অন্যদিকে নামাবঙ্গী হাইস্কুলে রিস্তারা, মালঞ্চা, আশুতোষ বালিকা বিদ্যাপীঠ ও জিএলপি বিদ্যাচক্র—মোট চারটি স্কুলের ৩২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়। সেখানেও জলের ট্যাপ ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।নামাবঙ্গী হাইস্কুলের টিচার-ইন-চার্জ রবীন্দ্রনাথ রায় বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি ছিল। কিছু ছাত্র ট্যাপ ভেঙেছে। বিষয়টি জেলা শিক্ষা দপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশুতোষ বালিকা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষিকা পম্পা দাসের কথায়, সরকারি স্কুলে পরীক্ষা দিতে এসে এই ধরনের তাণ্ডব মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার শেষ দিনে শিক্ষাঙ্গনে এই অশান্তির ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ নিয়েই। নকল রুখতে কড়াকড়ি—আর তার জেরেই কি এই ক্ষোভ? প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে দুই স্কুল কর্তৃপক্ষ।