বিশেষ চাহিদার কচিকাঁচাদের সঙ্গে বড়দিনের আনন্দে বালুরঘাট, সক্ষমের উদ্যোগে উজ্জ্বল হাসি

নিজস্ব সংবাদদাতা,বালুরঘাট: বড়দিন মানেই আনন্দ, আলো, গান আর ভালবাসার ছোঁয়া। বৃহস্পতিবার সেই উৎসবের রঙে রাঙা ছিল বালুরঘাটও। তবে এ দিনের আনন্দ ছিল একটু আলাদা, একটু বেশি মানবিক। সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন উদ্‌যাপন করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কচিকাঁচারাও। উদ্যোগী ভূমিকা নিল ‘সক্ষম’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।বালুরঘাটের একটি বেসরকারি সভাগৃহে এ দিন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বড়দিনের আনন্দ উৎসব। রঙিন সাজ, হাসিমুখ আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে গোটা প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে একের পর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা—নাচ, গান, আবৃত্তিতে নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখায় এই কচিকাঁচারা। কখনও ছন্দে পা মেলানো, কখনও গানের তালে তালে হাততালি—সব মিলিয়ে এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকেন উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দুপুরে ছিল শিশুদের জন্য বিশেষ পিকনিকের আয়োজন। খাবার, খেলাধুলো আর একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে বড়দিনের আনন্দে মেতে ওঠে তারা। আয়োজকদের বক্তব্য, আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই যাতে এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।সক্ষমের পক্ষ থেকে স্পেশাল এডুকেটর জয়িতা গোস্বামী বলেন, “আজ ক্রিসমাসের দিনে আমরা চাইছিলাম এই শিশু-কিশোররা আনন্দে মেতে উঠুক। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বাচ্চারা অনেক সময় সমাজের মূল স্রোত থেকে দূরে সরে যায়। তাই তারা যেন কোনও ভাবেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য।”অনুষ্ঠানে এসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এক অভিভাবিকা সোমা দাস। তিনি বলেন, “আমি এই বাচ্চাগুলোকে ছোটবেলা থেকে চিনি। একটা সময় ছিল, যখন ওদের অনেকেরই ঠিকমতো বোঝার ক্ষমতা ছিল না। আজ ওদের নাচতে, গান করতে দেখে সত্যিই চোখে জল চলে আসছে।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি হেডকোয়ার্টার বিক্রম প্রসাদও। তিনি বলেন, “বড়দিনের মতো সুন্দর দিনে এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগছে। সাধারণ শিশুদের সঙ্গে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের যে মেলবন্ধন আজ তৈরি হয়েছে, তা এক কথায় অনবদ্য।”বড়দিনের আলোয়, ভালবাসার ছোঁয়ায় এ দিন বালুরঘাটে যেন আরও একবার প্রমাণিত হল—আনন্দ সবার জন্য, আর উৎসব তখনই সম্পূর্ণ, যখন কেউ বাদ পড়ে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *