নিজস্ব সংবাদদাতা,বালুরঘাট :জনস্বাস্থ্য রক্ষা থেকে সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই— দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই শনিবার রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অনুষ্ঠিত হল চতুর্থ শনিবারের নিয়মিত সভা। রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত ও শক্তি বাহিনীর যৌথ সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় মাসিক জনস্বাস্থ্য পর্যালোচনার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ মুক্ত গ্রাম ও নেশা মুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হয়।সভায় প্রথমেই উপস্থাপিত হয় গত মাসের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিসংখ্যান। জানা যায়, গত মাসে রামকৃষ্ণপুর এলাকায় মোট ৪৯ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে ২২ জন গর্ভবতী মায়ের নাম নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ বছরের কম বয়সী গর্ভবতী মায়ের সংখ্যা ৪ জন এবং ২০ বছরের বেশি বয়সী ১৮ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মাসে এলাকায় মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য সামনে রেখে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন ও সময়মতো হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এদিনের সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রীমতী মিনতি রায়। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লক্ষ্য। বাল্যবিবাহ ও নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করতে হবে। তবেই সুস্থ সমাজ গড়া সম্ভব।”সভায় উপস্থিত উপ-প্রধান আকতারিনা পারভিন বলেন, “নারী ও কিশোরীদের সচেতনতা বাড়ানোই বাল্যবিবাহ রোধের মূল চাবিকাঠি। গ্রাম স্তরে এই ধরনের সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তা আরও নিয়মিত করা দরকার।”

গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব শ্রী তপন বিশ্বাস বলেন, “স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা ও সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার অনেকটাই কমানো সম্ভব।”
শক্তি বাহিনীর পক্ষ থেকে দেবু সরকার জানান, “আগামী দিনে সংসদ স্তরে বাল্যবিবাহ মুক্ত গ্রাম গড়ার লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। ধারাবাহিক প্রচারের মাধ্যমে এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করাই আমাদের লক্ষ্য।”