নিজস্ব সংবাদদাতা বালুরঘাট:
প্রশাসনের লাগাতার বালি চুরি বিরোধী অভিযানে কার্যত কোণঠাসা বালির ট্রাক্টর ও নৌকার মালিকরা। গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে কড়া নজরদারি ও অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা—এমনই দাবি প্রশাসনিক সূত্রের। তবে এই অভিযানে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই বালুরঘাটে রাস্তায় নামেন ট্রাক্টর মালিক ও বালি ব্যবসায়ীরা।এদিন প্রথমে বালুরঘাটের বিএলও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। পরে মিছিল করে বালুরঘাট জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জমায়েত হন তারা। বিক্ষোভ ঘিরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগে থেকেই সতর্ক ছিল পুলিশ-প্রশাসন। ঘটনাস্থলে পৌঁছান বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনিক ভবন চত্বর ও আশপাশের এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হয়।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনও উপযুক্ত কারণ ছাড়াই একের পর এক জরিমানা চাপানো হচ্ছে তাদের উপর। অভিযানের নামে ট্রাক্টর ও নৌকা আটক করা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি ব্যবসায়ীদের। এতে স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ।পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বালি ও ট্রাক্টর ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়ে তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। ব্যবসায়ীদের মূল দাবি, অবিলম্বে বালির চরগুলিকে সরকারি ভাবে লিজ দেওয়া হোক। সরকারি নিয়মে লিজ ও রেভিনিউ আদায়ের ব্যবস্থা চালু হলে তারা আইন মেনে শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যবসা করতে পারবেন বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের।এই প্রসঙ্গে এক আন্দোলনকারী ট্রাক্টর মালিক রবীন রায় বলেন, “প্রায় দু’বছর ধরে আমাদের কোনও চালান দেওয়া হচ্ছে না। আমরা গঙ্গারামপুর সাব ডিভিশন থেকে চালান কেটে আনলেও বিভিন্ন জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে আমাদের ট্রাক্টর আটক করা হচ্ছে। পঞ্চাশ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ফাইন করা হচ্ছে। এতে আমরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তাই আজ বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।”যদিও প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালি উত্তোলন ও পরিবহণ রুখতেই এই অভিযান চলছে। আইন ভেঙে কেউ বালি তুললে বা পরিবহণ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই স্পষ্ট বার্তা প্রশাসনের। তবে ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের এই টানাপোড়েনে কোনও সমাধানসূত্র মেলে কি না।