থানার সামনেই মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনা। লরির চাকায় পিষ্ট তরতাজা যুবক, নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন হিলিতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, বালুরঘাট :- দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি থানার সামনেই ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক তরতাজা যুবক। বুধবার বিকেলে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। ঘাতক লরির চালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ লরিটিকে আটক করেছে। ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা ও জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হিলি থানার পশ্চিম আপ্তৈর গ্রামের বাসিন্দা সমীর হেমরম (২৪) ও কৃষাণ রায় (২৫) এদিন বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবেদন করতে হিলি বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন। বিকেলে ফর্ম জমা দিয়ে স্কুটিতে করে বাড়ি ফেরার সময় থানার মূল গেটের সামনেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, বাংলাদেশগামী একটি পণ্যবোঝাই লরি আচমকা ধাক্কা মারলে স্কুটি চালক কৃষাণ রায় ছিটকে পড়েন। পিছনে বসা সমীর হেমরম লরির চাকায় পিষ্ট হন।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশকর্মীরা দ্রুত দু’জনকে হিলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সমীরকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কৃষাণ রায়কে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই থানার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।অভিযোগ উঠেছে, জাতীয় সড়কের হিলিগামী লেন দীর্ঘদিন ধরেই পণ্যবোঝাই লরির দখলে থাকায় যান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। অনেকের দাবি, উল্টো লেন ধরে বেপরোয়া গতিতে লরি চলাচলই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। স্থানীয় বাসিন্দা মৃন্ময় লাহা জানান, একই দিক থেকে আসা লরির ধাক্কায় বাইকটি চাকার নিচে ঢুকে যায়, আর তাতেই মর্মান্তিক পরিণতি।মৃতের বাবা লিপলাল হেমরমের অভিযোগ, বাড়ির প্রকল্পে আবেদন করতে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হল না তাঁর ছেলের। ইতিমধ্যেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতক চালকের খোঁজে তল্লাশি চলছে।এই ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে—থানার সামনেই যদি এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *