এমআরপিতে সার বিক্রি থেকে সহায়ক মূল্যে ফসল কেনা—আট দফা দাবিতে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনির্দিষ্টকালের অবস্থানে দক্ষিণ দিনাজপুর কৃষক সমিতি

নিজস্ব সংবাদদাতা , বালুরঘাট:
এমআরপি দরে সার বিক্রি, সহায়ক মূল্যে প্রতিটি ফসল কৃষকদের কাছ থেকে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে কেনা-সহ একাধিক দাবিতে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করল দক্ষিণ দিনাজপুর কৃষক সমিতি। দুপুর থেকে জেলার প্রশাসনিক ভবনের সামনে শতাধিক কৃষক জড়ো হয়ে এই আন্দোলনে সামিল হন। কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।কৃষক সমিতির তরফে জানানো হয়েছে, জেলার বিভিন্ন সারের দোকানে এমআরপি দরের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে।

এর ফলে চাষের খরচ ক্রমশ বাড়ছে, অথচ ফসলের ন্যায্য দাম মিলছে না। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে বলেই অভিযোগ। এই সমস্যা নিয়ে আগেও জেলা কৃষি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালোবাজারি রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

এদিন অবস্থান-বিক্ষোভে উপস্থিত দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা কৃষক সমিতির জেলা সম্পাদক সঞ্জিত কুমার মণ্ডল বলেন, “আমরা এমআরপি দরে সার বিক্রি-সহ প্রায় আট দফা দাবিতে আগেও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। তখন আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু বহুদিন কেটে গেলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই আজ অনির্দিষ্টকালের অবস্থান-বিক্ষোভে বসতে হয়েছে।”তিনি আরও জানান, কৃষক সমিতির দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—জেলার প্রতিটি সারের দোকান থেকে এমআরপি দরে সার বিক্রি নিশ্চিত করা, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ফসল কেনা, চাষের উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা। মোট আট দফা দাবিকে সামনে রেখেই এই আন্দোলন চলছে বলে জানান তিনি।কৃষকদের স্পষ্ট বক্তব্য, যতক্ষণ না তাদের দাবি পূরণ হচ্ছে ততক্ষণ এই আন্দোলন চলবে। অবস্থান-বিক্ষোভ ঘিরে জেলা প্রশাসনিক ভবন চত্বরে পুলিশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।তবে প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আন্দোলনের জেরে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রয়েছে জেলার কৃষক মহল ও প্রশাসনের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *